যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের তুলনায় মিলিয়ন ডলারের তালিকাভুক্ত বাড়ি বাড়ছে মিয়ামিতে। দেশটিতে বিলাসবহুল হাউজিং বাজারের কেন্দ্র যে দক্ষিণাঞ্চলে সরে যাচ্ছে এটিই তার ইঙ্গিত বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।
বিলাসবহুল হাউজিং বিষয়ক রিয়েলটার ডটকমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনুসারে, মিয়ামিতে ১ মিলিয়ন বা তার বেশি মূল্যের ১০ হাজার ৫৯১টি তালিকাভুক্ত বাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কে রয়েছে একই মূল্যের ১০ হাজার ১৭৬টি বাড়ি। বিলাসবহুল বাড়ির ক্ষেত্রে প্রায় দশকব্যাপী নিউইয়র্ক শীর্ষস্থান ধরে রেখেছিল। কিন্তু গত মাসে নেতৃত্বে আসে মিয়ামি।
ডগলাস এলিম্যানের ভাইস চেয়ার ডটি হারম্যানের মতে, মিয়ামির এ উত্থান সাময়িক নয়। এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কারণ রয়েছে। সান বেল্ট অঞ্চলে জনবিন্যাসগত পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক মূলধন বৃদ্ধি এবং আর্থিক, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিকাঠামোর গভীর উপস্থিতি।
মিয়ামির বিলাসবহুল বাড়ি ক্রেতারা সাধারণত নগদ লেনদেন করেন। যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশী, অবসরে যাওয়া ব্যক্তি বা দ্বিতীয় বাড়ির ক্রেতা। এমন ব্যক্তিরা সাধারণ বন্ধকি, স্কুলের সময়সূচি বা মৌসুমি প্রভাবের প্রতি তুলনামূলক কম সংবেদনশীল। অন্যদিকে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল আবাসন সাধারণ একটি চক্র অনুসরণ করে। বসন্তে বাড়ির চাহিদা বাড়ে ও শীতে কমে।
ডটি হারম্যান বলেন, ‘মিলিয়ন ডলারের বাড়ির চাহিদা বৃদ্ধিতে নিউইয়র্ককে ছাড়িয়ে যাওয়া মূলত মিয়ামির বাজার সম্প্রসারণ, নিউইয়র্কের দুর্বলতা নয়।’
তিনি এও জানান, সর্বশেষ ১০ বছরে মিয়ামিতে বিলাসবহুল আবাসনের সংজ্ঞা পরিমার্জিত হয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী পরিবেশ, নতুন বাড়ি, রিসোর্টের মতো সুবিধা এবং স্পা ও জিম ক্লাবের মতো লাইফস্টাইল অনুষঙ্গ এখানে প্রয়োজনীয় পরিষেবা। সে তুলনায় নিউইয়র্কে ভূপ্রাকৃতিক কারণে ভূমি, জমির ব্যবহার ও সরবরাহ সীমাবদ্ধ।
এছাড়া নিউইয়র্কে অঙ্গরাজ্য ও শহরের সম্মিলিত করের বোঝা বেশি। অন্যদিকে মিয়ামিতে অঙ্গরাজ্যের আলাদা আয়কর নেই। ফলে উচ্চ আয়কারী এ সুবিধা পেতে তৎপর হচ্ছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মিয়ামির বিলাসবহুল চাহিদায় ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ হিস্যা ধারণ করেন নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকার বাসিন্দারা। ডটি হারম্যান বলেন, ‘এটি পুরো নিউইয়র্ক জনসংখ্যার ব্যাপক স্থানান্তর নয়। বরং উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের লক্ষ্যভিত্তিক স্থানান্তর ঘটছে। বিশেষ করে আর্থিক, প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেটের মতো খাতের পেশাজীবীরা এতে ভূমিকা রাখছেন।’
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিলাসবহুল বাড়ির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। দামের গড় এখন ১১ লাখ ৯০ হাজার ডলার। বিলাসবহুল বাড়ি বিক্রি হতে বেশি সময় লাগছে, গড়ে ৪৪ দিন। এর অর্থ হলো আবাসন খাতে বড় বিনিয়োগে ক্রেতারা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। সঙ্গে মৌসুমি প্রভাবও রয়েছে।
খবর ফক্স নিউজ